পোস্টগুলি

হুট করে এভাবে চলে গেলেন রণজিত দা!

ছবি
তাঁর লেখার যে ভঙ্গি, শৈলী ও সৌন্দর্য, তাতে করে তাঁর লেখনির প্রতি যে কেউই আকৃষ্ট না হয়ে পারবেন না। সব ধরনেরই লেখাই তিনি দু হাতে লিখতেন। তবে ক্রীড়ালেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত ছিলেন। জীবনের অধিকাংশ সময়ই তিনি কাটিয়েছেন ক্রীড়ালেখনির সাম্পানে। ক্রীড়ালেখনির ক্ষেত্রে তিনি স্বতন্ত্র একটি ধারা ও মেজাজ গড়ে তুলতে সক্ষম হন। বাংলা ভাষায় তাঁর দক্ষতা ও পা-িত্য ছিল বিস্ময়কর। বাবুই পাখির বাসার মতো নিপুণ ও শৈল্পিক দক্ষতায় যেভাবে শব্দের জাল বুনতেন, তার কোনো তুলনা হয় না। তবে ক্রিকেটের প্রতি তাঁর ছিল অপরিসীম দরদ ও ভালোবাসা। তাঁর লেখায় পাওয়া যেত ক্রিকেট সাহিত্যের রূপ-রস-গন্ধ। সঙ্গত কারণেই তাঁর সঙ্গে পরিচয়ের আগেই তাঁর লেখার মুগ্ধ পাঠক হয়ে যাই। আর পরিচয় হওয়ার পর সেই মুগ্ধতা ক্রমাগত বেড়েই চলে। লেখার মতোই কথপোকথনেও তিনি ছিলেন অন্তরঙ্গ, সাবলীল ও স্মার্ট। তাঁকে কথার জাদুকর বললে ভুল বলা হবে না। তাঁর বিশুদ্ধ উচ্চারণ, বাচনভঙ্গি ও বলার স্টাইল ছিল অসাধারণ। তাঁর সঙ্গে কথা বলার সময় মনে হতো, যেন বেতার বা টেলিভিশনে তাঁর কথা শুনছি। রণজিৎ কুমার বিশ্বাস চট্টগ্রামের সন্তান হলেও তাঁর কথায় বিন্দুমাত্র আঞ্চলিকতার টান ছিল ন...

মোহাম্মদ আলী আর ফ্ল্যাশবিহীন ছবি / দুলাল মাহমুদ

ছবি
বক্সিংয়ের প্রতি আমার কখনই ভালোবাসা ছিল না। এখনও নেই। প্রতিপক্ষকে নির্মমভাবে আঘাত ও রক্তাক্ত করার জান্তব দৃশ্য আমি দেখতেই চাই না। উপভোগ করার তো প্রশ্নই আসে না। বৈসাদৃশ্য হলেও সত্য, সেই স্কুল বয়সে এমন একজনকে মনের কোঠায় ঠাঁই দিয়েছিলাম, বক্সিং ছাড়া তিনি অন্য কিছু ভাবতেও পারতেন না। বক্সিংই ছিল তাঁর ধ্যান-জ্ঞান-সাধনা। ভালোবাসা তো বটেই। তাহলে কেন তিনি আমার হৃদয়ে স্থান করে নিলেন? সে এক রহস্য বটে। তবে এটা হতে পারে, তখন এমন ব্যক্তিত্ব খুব কম ছিলেন, যাঁকে বা যাঁদের নিয়ে নিয়ে গর্ব করা যায়। সে সময় মিডিয়ার তো এমন জয়জয়কার ছিল না। সাদা-কালো বাংলাদেশ টেলিভিশন আর গমের লালচে আটার মতো নিউজপ্রিন্টের সংবাদপত্রই ছিল ভরসা। কোনোটাই খুব বেশি সুলভ ছিল না। তারপরও এই দুই মাধ্যমে যাঁরা আমাদের মন জয় করে নেন, তিনি তাঁদের একজন। তিনি কিংবদন্তি বক্সার মোহাম্মদ আলী। সেই কিশোর বয়সে কত বিচিত্র বিষয়ে যে আকর্ষণ করতো। বক্সিংয়ের হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন মোহাম্মদ আলীর জীবন তো কম বর্ণাঢ্য ও বর্ণিল নয়। তা আকর্ষণ না করার তো কোনও কারণ নেই। স্কুলের পাঠ্য বইয়ে কি তিনি ছিলেন? স্মৃতি থেকে উদ্ধার করতে পারছি না। তবে যেভাবেই হোক, ভিয়েতনা...

যেন রূপকথার এক নায়ক / দুলাল মাহমুদ

ছবি
এক. শাওন মাসের কোনো এক সন্ধ্যা। সাল ১৯৮৫। ঢাকার পিলখানার বিডিআর সদর দফতরের সুইমিং পুল। চারপাশটা বেশ সাজানো-গোছানো। দীর্ঘ গাছের সারির পাতার ফাঁক-ফোকর দিয়ে নেমে এসেছে গোধূলি। কৃত্রিম আলোয় কেমন একটা মায়াবী পরিবেশ। সেইসঙ্গে জলের ছন্দময় দোলা। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়াই করছেন সাঁতারুরা। সাফ গেমসকে সামনে রেখে চলছে তাঁদের প্রস্তুতি। আর সাঁতারুদের দীক্ষা দিচ্ছেন এমন একজন, যিনি আমাদের অনেকের কাছেই রীতিমতো রূপকথার নায়ক। স্কুলের পাঠ্য বইয়ে তাঁর কথা পড়েছি। শুনেছি তাঁর অবিশ্বাস্য কীর্তির কথা। সেই তরুণ বয়সে আমার কাছে মনে হচ্ছিল, তিনি যেন পাঠ্য বইয়ের পাতা থেকে নেমে আসা অলৌকিক কোনো ব্যক্তিত্ব। তাঁর দ্যুতি আমাকে বিভোল করে দিচ্ছিল। এর আগে এই মাপের কোনো ক্রীড়া ব্যক্তিত্বের সান্নিধ্য তো দূরে থাক, দেখারও সুযোগ হয় নি। সেই আমি কিনা এসেছি এমন একজন ব্যক্তিত্বের সাক্ষাৎকার নিতে! এরচেয়ে বিস্ময়কর আর কী আছে? তাঁর চোখে ভারী ফ্রেমের চশমা। পরনে হাওয়াই শার্ট আর ফুল প্যান্ট। ব্যাক ব্রাশিং করা চুল। রুচিশীল ও ব্যক্তিত্বময় সুপুরুষ। মুখে আকর্ণ বিস্তৃত হাসি। বয়স তখন ষাটের কাছাকাছি। কিংবদন্তিসম ব্যক্তি হয়েও তাঁর মধ্যে ছি...

ক্রিকেট কি খুঁজে পেয়েছে তার ঠিকানা? দুলাল মাহমুদ

ছবি
দীর্ঘ কাল আগে যাত্রা শুরু করেও ক্রিকেট কিন্তু যুগের পর যুগ চলছিল গন্তব্যহীন পথে। যখনকার কথা বলছি, তখন ক্রিকেটটা কেবল খেলা ছিল না। বন্দি হয়েছিল আভিজাত্য আর বনেদিয়ানার নিঃসঙ্গ ঘেরাটোপে। এমন পরিবেশে ক্রিকেট বিকশিত হওয়ার কথা নয়। হয়ওনি। সময়কে খোলামকুচির মতো উড়িয়ে দেওয়া আর রঙিন পানীয় চুমুকের ফাঁকে ফাঁকে মন চাইলে উপভোগ করাটাই ছিল ক্রিকেট। নিবেদিত ছিল বিত্তের কাছে। আটকে ছিল বিত্তবানদের হাতে। বিত্তহীনদের কাছে ক্রিকেট ছিল মধুর ছলনা। এলিট শ্রেণীর ফাইফরমাশ খাটতে খাটতে ‘নি¤œ শ্রেণী’র কেউ কেউ পরিস্থিতির কারণে কখনো-সখনো স্বাদ পেয়েছেন কথিত এই খেলাটির। ঔপনিবেশিক শক্তির কাছে জিম্মাদার থাকার সময় এটিকে খেলা হিসেবে ভাবা যায় নি। ভাবার কথাও নয়। দিনের পর দিন পেরিয়ে যায়। তবুও অমীমাংসিত থেকে যায় খেলার ফল। যাঁদের প্রকৃতঅর্থে কোনও কাজ ছিল না, সৃষ্টির ফুল ফোটানোর কোনও তাগিদ ছিল না, জীবনে কোনও চাহিদা ছিল না, নিজেদের ভোগের জগত নিয়ে যাঁরা ছিলেন অতিমাত্রায় বিভোর, এমন কিছু বিচ্ছিন্ন মানুষদের হাত ধরে ক্রিকেটের অভিযাত্রা শুরু হয়। খেলার পরতে পরতে ছিল নিজেদের জাহির করার দম্ভ। যদিও সাদা পোশাককে বানানো হয় কেতাদুরস্ততার ...

সেই আক্ষেপ, সেই কষ্ট, সেই বেদনা / দুলাল মাহমুদ

ছবি
সময় কি মুছে দেয় সব কষ্ট? সব হতাশা? সব স্মৃতি? হয়তো উপশম করতে পারে। প্রলেপ দিতে পারে। আড়াল করে দিতে পারে। কিন্তু হৃদয় থেকে একদমই মুছে দিতে পারে না। কিছু কিছু কষ্ট আছে অবদমিত থেকে যায়। কিছু কিছু হতাশা আছে নিরুৎসাহিত করে। কিছু কিছু স্মৃতি আছে বুকের মধ্যে ঘুমিয়ে থাকে। যখনই মনে পড়ে যায় সেই সব কথা, তখনই বেদনাদায়ক অনুভূতি হয়। ব্যক্তির জীবনে এমনটি হরদমই হচ্ছে। আর যে কষ্ট, হতাশা ও স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি জাতির স্বপ্নভঙ্গের বেদনা, সেটি কখনও ভুলে যাওয়া যায় না। এর রেশ চলতে থাকে অনন্তকাল। তবে এটা তো স্বাভাবিক, যে সময়খ-ে কোনও ঘটনা ঘটে, সেই সময়কার মানুষদের মনে সে ঘটনা চিরস্থায়ী ছাপ ফেলে দেয়। দীর্ঘ দিন সজীব থেকে যায়। চিরকালের জন্য দীর্ঘশ্বাস হয়ে থাকে। বর্তমানে বাংলাদেশের ক্রিকেট হয়ে ওঠেছে আশা-ভরসার কেন্দ্রস্থল। ক্রিকেট নিয়ে এ দেশের মানুষের সীমাহীন আবেগ-উচ্ছ্বাস আর ভালোবাসা। তা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্নের শেষ নেই। যেখানে স্বপ্ন আছে, সেখানে আছে স্বপ্নভঙ্গের বেদনাও। বাংলাদেশের ক্রিকেটেও আছে অনেক না পাওয়ার বেদনা। যে বেদনা কখনও মধুর হওয়ার নয়। অনেক প্রতিকূলতা পাড়ি দিয়ে সীমিত ওভারের আন্তর্জাতিক ...

দুলাল মাহমুদের প্রকাশিত গ্রন্থের প্রচ্ছদসমূহ

ছবি

বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ কি কেবল ভারত? দুলাল মাহমুদ

ছবি
বিশ্বকাপ ক্রিকেটে কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ কি কেবলই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারত? আপাতদৃষ্টিতে তেমন মনে হলেও বাংলাদেশকে কিন্তু অনেক প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করতে হবে। বিশ্বকাপ ক্রিকেট এমন এক মঞ্চ, যার আড়ালে লুকিয়ে থাকে অনেক রহস্য, অনেক লুকোচুরি, অনেক হিসাবের খেলা। আর এখন তো বিশ্বকাপে বেলাগাম অর্থের ছড়াছড়ি। অর্থের উৎস যেখানে অফুরন্ত, সেই সূত্র তো কোনো নাদানও বন্ধ করতে চাইবে না। আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) তো অর্থকড়ি বিষয়টাকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। সিদ্ধান্ত নিচ্ছে ইচ্ছেমতো। বড় দলগুলোর মর্জিমাফিক চলতে গিয়ে বিপদে ফেলছে ছোট দলগুলোকে। তাছাড়া যেখানে আছে অর্থের প্রলোভন, সেখানে জড়িয়ে থাকে নানান স্বার্থ, ধূর্ততা ও চালবাজি। যে কারণে বিশ্বকাপ ক্রিকেটেও অনেক কিছু নির্ধারিত হয় পর্দার অন্তরালে। গ্রুপ পর্বে হয়তো এই বিষয়গুলো তেমন গুরুত্ব পায় না। একেবারেই যে পায় না, সেটাও বলা যাবে না। এবার যেমন ভারত পেয়েছে ভেন্যু সুবিধা। অস্ট্রেলিয়ায় খেলেছে টানা চার ম্যাচ এবং পরবর্তী দুই ম্যাচ নিউজিল্যান্ডে। বাংলাদেশের মতো অর্থনৈতিকভাবে অনুজ্জ্বল দলগুলোকে যখন এক ভেন্যু থেকে আরেক ভেন্যুতে ছোটাছু...