পোস্টগুলি

আমি ক্লান্ত প্রাণ এক...... দুলাল মাহমুদ

ছবি
চার বছরের জন্য অস্ত গেল বিশ্বকাপ ফুটবল নামক জ্বলজ্যান্ত সূর্যটা। অস্তগামী সূর্যের ম্লান আলোয় ছড়িয়ে আছে ক্লান্তি আর অবসন্নতা। এখন আর কোনো উত্তাপ নেই। উত্তেজনা নেই। উদ্বেগ নেই। উৎকণ্ঠা নেই। চারিদিকে যেন ছড়িয়ে আছে থোকা থোকা বিষণ্নতা। কী যেন ছিল, কী যেন হারিয়ে ফেলেছি। চাইলেও তাকে খুঁজে পাচ্ছি না। বুকের মধ্যে কী এক শূন্যতা গড়াগড়ি খায়। একটি মাস যে কীভাবে কীভাবে ঘোরের মধ্যে কেটে গেল, বুঝতে পারছি না। মাসব্যাপী এই মহোৎসব শেষ হয়ে যাওয়ার পর মনে হচ্ছে, কতটা নিমগ্ন ও কতটা নিমজ্জিত ছিলাম। কতটা আন্দোলিত, কতটা আলোড়িত হয়েছিলাম। ‘দ্য গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ’ বদলে দিয়েছিল জীবনের দিনলিপি। দিনগুলোকে রাত আর রাতগুলোকে করে তুলেছিল দিন। জীবন থেকে কমে গিয়েছিল ভালোবাসার ঘুম। এলোমেলো দিনলিপিতে প্রতিদিনই ঘুম ভাঙতো একটা উদ্বেগ অর উৎকণ্ঠা নিয়ে। টের পেতাম উত্তাপ আর উত্তেজনা। কেন মনের উপর অকারণেই চাপ বাড়তো, বলতে পারবো না। অবশ্য অবসর আর অবকাশ বলতে তো কিছুই ছিল না। প্রকৃতঅর্থে জীবনটা হয়ে উঠেছিল বিশ্বকাপময়। ঘুমে, জাগরণে। অনুভবে, অনুভূতিতে। আবেগে, উচ্ছ্বাসে। বিশ্বকাপ ফুটবলের সঙ্গে নিবিড় সম্পৃত্ততার কারণে মাথার মধ্যে ঘুরপা...

টপ-ফেবারিটদের বিশ্বকাপ ফুটবল / দুলাল মাহমুদ

ছবি
বিশ্বকাপ ফুটবল শুরুর আগে শিরোপার লড়াইয়ে ফেবারিটের তালিকায় অনেক দেশই ছিল। কিন্তু খেলা মাঠে গড়ানোর পর, আরো সুষ্পষ্টভাবে বললে, একটি করে ম্যাচ হওয়ার পর বোঝা যেতে থাকে, ফেবারিটের তালিকায় খুব বেশি নাম থাকার দরকার নেই। এই তালিকায় ব্রাজিল, নেদারল্যান্ডস, ইতালি, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, জার্মানিই আলোচনায় উঠে আসে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেনও এই তালিকায় থাকার কথা ছিল। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই স্প্যানিশরা যেভাবে বিধ্বস্ত হয়, তাতে তাদের নিয়ে আশাবাদী হওয়ার সুযোগ কমে যায়। অবশ্য এমনিতেই প্রতিটি বিশ্বকাপ ফুটবলেই এই নামগুলোই ঘুরে-ফিরে আলোচিত হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এই তালিকার বাইরের দলগুলো যে উঠে আসে না, সেটা নয়। প্রায় প্রতিটি বিশ্বকাপে কোনো না কোনো দল চমক সৃষ্টি করে সেমি-ফাইনাল অব্দি পৌঁছে যায়। এবার আর সেই চমক কারো পক্ষে দেখানো সম্ভব হয়নি। স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড থাকা সত্ত্বেও বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডের শুরুর দিকেই টপ-ফেবারিট হিসেবে স্থান পায় জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল। শেষ পর্যন্ত এবারের সেমি-ফাইনালে উঠে এসেছে এই চারটি দেশই। টপ-ফেবারিট হিসেবে চিহিৃত হলেই যে সেরা চার-এ দলগু...

লাতিন ফুটবলের বিদায়ের ঘণ্টাধ্বনি কি বাজছে? দুলাল মাহমুদ

ছবি
ইউরোপীয়দের বিশ্বকাপ ফুটবলের শিরোপা জিততে না দেওয়ার যে অহংকার ছিল লাতিন আমেরিকার, সেই অহংকার আর রইলো না। ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে লাতিন আমেরিকা থেকে শিরোপা জয় করার গৌরব এখন জার্মানির। লাতিনরা একে একে হারিয়ে ফেলছে তাদের অর্জন, তাদের গৌরব, তাদের অহংকার। ইউরোপ থেকে প্রথম শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব ছিল ব্রাজিলের। ১৯৫৮ সালে সুইডেন থেকে শিরোপা জয়টা ছিল লাতিনদের একমাত্র উদাহরণ। এরপর ইউরোপ থেকে যেমন কেউ আর শিরোপা জিততে পারেনি। তেমনিভাবে পারেনি লাতিন থেকেও ইউরোপের কেউ শিরোপা জিততে। অনেক প্রতীক্ষার পর এবার জার্মানি জয় করলো লাতিন আমেরিকা। এটা লাতিনদের জন্য বড় ধরনের একটা সতর্ক সংকেত হয়ে রইলো। এরআগে এমন কখনো হয়নি যে ইউরোপ বা লাতিন আমেরিকা দুইবারের বেশি শিরোপা থেকে দূরে থেকেছে। এবার সেই দৃষ্টান্তও স্থাপন করলো লাতিন আমেরিকা। উপর্যুপরি তিনটি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হতে পারলো না লাতিনরা। শিরোপা জয়ের দিক দিয়ে ইউরোপীয়দের সঙ্গে লাতিনদের ব্যবধানটাও বাড়লো। ইউরোপ ১১ এবং লাতিনরা ৯ বার শিরোপা জয় করেছে। এই ব্যবধানটা ক্রমশ বাড়তে থাকলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এমনিতেই নিজেদের মাঠে ইউরোপীয়রা অটল পাহাড়ের মতো। ৫৬ বছর আগে ব্রাজি...

স্বপ্নের সূর্যটা যেখানে অস্তমিত / দুলাল মাহমুদ

ছবি
My mind always dancing when I'm here. The rhythm of the passion we can hear. The bossa nova beat that makes me move my feet. We are dancing in Brazil. ব্রাজিলে বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনের সময় যখন ঘনিয়ে আসছিল, তখন বুকের মধ্যে বাজতে থাকে রুমানিয়ান শিল্পী আন্দিয়া বানিকার ‘লাভ ইন ব্রাজিল‘। এই গানের সুর, ছন্দ, দোলায় নেচে উঠছিল মন-প্রাণ। শুনতে পাচ্ছিলাম উদ্দীপনার ছন্দ। দুলিয়ে দিচ্ছিল বোসা নোভা বিট। ব্রাজিলের প্রাণের স্পন্দন অনুভব করার জন্য একটু একটু করে প্রস্তুত হচ্ছিলাম। অপেক্ষায় ছিলাম ফুটবল, সাম্বা আর ভালোবাসার চিরায়ত রোমাঞ্চের। এমনিতেই বিশ্বের বিভিন্ন মাঠে দেখতে পেয়েছি ব্রাজিলীয় ফুটবলের লাবণ্য, গ্যালারিতে সাম্বার দোলা আর হলুদের অপরূপ শোভা। আর এবার ব্রাজিলের মাঠে বিশ্বকাপ! ভাবতেই কেমন শিহরণ লেগেছিল। লাগাম ছাড়িয়েছিল কল্পনা। বুঁদ হয়েছিলাম রোমান্টিকতার আবেশে। অনেক বেশি প্রত্যাশার রঙে রাঙানো ছিল মন। কত আকাশ-কুসুম স্বপ্ন দেখেছিলাম। হায়! অনেক বেশি চেয়েছিলাম বলে কি অনেক বেশি না পাওয়ার বেদনায় জর্জরিত হতে হলো। কী চেয়েছিলাম আর কী পেলাম? ব্রাজিলীয় ফুটবল যে এতটা দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে, সে...

বিশ্বকাপের টুকরো টুকরো স্মৃতি / দুলাল মাহমুদ

ছবি
যদিও অর্ধ-শতাব্দী বছর পেরিয়ে যাবার পর বিশ্বকাপ ফুটবলের সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপিত হয়েছিল আমাদের। তারপরও আমরা অনেকটা সৌভাগ্যবান যে, আমাদের তারুণ্যে আমরা পেয়েছিলাম এই মহোৎসবকে। বাংলাদেশের টেলিভিশনের কল্যাণে মূলত ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপই ব্যাপকভাবে সম্পৃত্ত করেছিল এ দেশের ফুটবল অনুরাগীদের। তালিবাবাদ ভূ-উপগ্রহের মাধ্যমে সুদূর স্পেন থেকে সরাসরি সম্প্রচার হয়েছিল বিশ্বকাপের খেলা। লেখালেখি জীবনের শুরুতে এমন একটি বর্ণাঢ্য ও বর্ণিল উৎসবের সংস্পর্শে এসে বর্তে গিয়েছিলাম। এই বিশ্বকাপ খুলে দিয়েছিল আমাদের দিব্যদৃষ্টি। ঢাকা ষ্টেডিয়ামের মধ্যে সীমাবদ্ধ আমাদের দেখার জগতটা অনেক বিস্তৃত হয়ে গিয়েছিল। আমরা নাগরিক থেকে হয়ে উঠেছিলাম বিশ্ব নাগরিক। সেই যে গোপন প্রেমিকার মতো বুকে ঠাঁই করে নিয়েছিল বিশ্বকাপ ফুটবল, তার আকর্ষণ, তার আচ্ছন্নতা, তার মোহ কখনো ফিকে হয়ে যায়নি। বরং যতই দিন গিয়েছে গভীরতর হয়েছে প্রেম। জীবনের কত কত দিন, কত কত রাত বিসর্জন দিয়ে বিশ্বকাপের আরাধনায় নিমগ্ন থেকেছি। পান করেছি অনাবিল সৌন্দর্য সুধা। বিশ্বকাপ ফুটবলকে নিয়ে কত স্মৃতি, কত আনন্দ, কত বেদনা। সবটাই স্মৃতিবন্দি হয়ে আছে, তা অবশ্য নয়। অনেক কিছুই হারিয়...

এ কেমন নিষ্ঠুরতা? দুলাল মাহমুদ

ছবি
রাজ্য নেই। রাজত্বও নেই। আছে কেবলই তীব্র পরিহাস। আর এমন পরিহাসের সামনে মুখোমুখি হওয়া এক ধরনের নিষ্ঠুরতাই মনে হয়। হিংস্র ষাঁড়ের সামনে অসহায় কাউকে ছেড়ে দেওয়ার মতো অনেকটা। এতে হয়তো কেউ কেউ জান্তব উল্লাস পেতে পারেন। কিন্তু তাতে কোনো বীরত্ব নেই। কিন্তু ফিফার মতো একটি প্রতিষ্ঠান কেন এখনো এ ধরনের রেওয়াজ চালু রেখেছে,  সেটা আমার অন্তত বোধগম্য নয়। বিশ্বকাপ ফুটবলের মতো একটি আসরে এমন তামাসা অন্তত মানায় না। বলছিলাম, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের কথা। শিরোপার লড়াইয়ে থাকা দু’টি দল সব কিছু হারিয়ে যখন বিধ্বস্ত, বিষণ্ন, বিপন্ন, তখন তাদেরকে গুরুত্বহীন একটি ম্যাচে খেলতে বাধ্য করার মধ্যে কী আনন্দ থাকতে পারে? যদিও বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু থেকে এই ধারা চলে আসছে। তখনকার প্রেক্ষাপটে এবং চিন্তা-ভাবনায় এটিকে হয়তো যথাযথ মনে হয়েছে। কারণ, তখন তো মধ্যযুগীয় ধ্যান-ধারণার রেশ কাটানো যায়নি। সে সময়ে এটিকে শ্রেয়তরই মনে হয়েছে। কালের পরিক্রমায় অনেক কিছুই   তো বদলে গেছে। কত পরিবর্তন-পরিবর্ধন-পরিমার্জন হয়েছে। বিশ্বকাপ ফুটবল যখন শুরু হয়েছিল, তখনকার কথা চিন্তা করুন, আর এখনকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন, কত না পার্থক্য। বদলে ...

এখন সময় মেসির, এখন সময় আর্জেন্টিনার / দুলাল মাহমুদ

ছবি
আমাদের শৈশবটা ছিল ফুটবলময়। যে কারণে ফুটবল নিয়েই আমাদের বেড়ে উঠা। আমাদের স্বপ্ন দেখা। তখন ঢাকার ফুটবলের যে রমরমা ছিল, তা এখন কল্পনাই করা যায় না। শুধু এটুকু বলা যায়, বিশ্বকাপ ফুটবল এলে ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনাকে নিয়ে যে মাতামাতি, তারচেয়েও বেশি ছিল মোহামেডান এবং আবাহনীকে নিয়ে উন্মাদনা। সঙ্গত কারণে ফুটবল থেকে আমাদের দূরে থাকার সুযোগ ছিল না। ফুটবলেই সঁপে দিয়েছিলাম মন-প্রাণ। ঢাকার ফুটবলের বাইরে বিশ্ব ফুটবলের যেটুকু টুকরো টুকরো স্পন্দন আমরা টের পেতাম, তার বেশিরভাগই কালো মানিক পেলে আর ব্রাজিলকে কেন্দ্র করে। কী কারণে পেলে ও ব্রাজিল বুকের মরমে পৌঁছে যায়, সেটা গভীরভাবে তলিয়ে দেখিনি। তা বোধকরি অনুভবের ব্যাপার। আমাদের বয়সে ব্রাজিল ছাড়া আর কোনো দল মনোযোগ কাড়তে পারেনি। পরবর্তীতে ব্যক্তিগত ও দলীয় ক্রীড়াশৈলী দিয়ে অনেক ফুটবলার ও দেশ আলোচনায় উঠে এসেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে ব্রাজিলের পর সবার হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা। লাতিন ঘরানার এই দুই দেশই হয়ে উঠেছে সবার প্রিয়। আসলে ভালো লাগা আর ভালোবাসার ব্যাপার কারো কোনো হাত থাকে না। কীভাবে কীভাবে যেন হয়ে যায়। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু একটা অদ্ভুত ...